বাংলা রামায়ন-সীতা অপহরণের গুপ্তকথা-bangla Ramayan katha
রাক্ষসরাজ রাবণের ভগিনি সুর্পনখা রামভার্যা মহালক্ষী সীতাকে রাবণভার্যা হওয়ার জন্য তাঁকে আনতে উদ্যত হলে রামানুজ লক্ষ্মন তার নাক-কান কেটে দিল। প্রতিহিংসায় ক্রোধিত হয়ে সুর্পনখা ভ্রাতা রাবণের কাছে নালিশ করল এবং সীতার অপূর্ব সৌন্দর্যের কথা ব্যক্ত করে তাকে সীতাবিবাহ করার মাধ্যমে এর প্রতিশোধ নিতে প্ররোচিত করার জন্য তারকা রাক্ষসীর পুত্র মায়াবী মরীচের কাছে গেল। রাবণ মারীচকে বলল-
“সীতাকে প্রলোভিত করার জন্য তুমি মায়াবলে রজতবিন্দুসমূহে চিত্রিত স্বর্ণমৃগ (স্বর্ণবর্ণ হরিণ) হয়ে রামের আশ্রমে গিয়ে জনকদুহিতা সীতার সম্মুখে বিচরণ করো। তুমি স্বর্ণমৃগ হয়ে বিচরণ করতে থাকলে রামভার্যা, জনকনন্দিনী সীতা তোমাকে দেখে বিস্মতা হয়ে তৎক্ষণাৎ রামকে ‘এই মৃগ আনয়ন করো’ এ কথা বলবে; এরপর রাম তোমাকে ধরতে আশ্রম হতে বহির্গত হলে, তুমি বহু দূরে গিয়ে ‘হা সীতে, হা লক্ষ্মণ’-এরূপ বাক্য উচ্চারণপূর্বক আর্তনাদ করবে। সীতা তা শুনে সুমিত্রানন্দন লক্ষ্মণকে রামের নিকট পাঠাবে; লক্ষ্মণও সৌভ্রাত্রবশত রামের অনুগামী হবে। এভাবে রাম ও লক্ষণ আশ্রম ত্যাগ করলে আমি বিদেহরাজনন্দিনী সীতাকে অনায়াসে অপহরণ করব।”
মহামুনি বাল্মীকি রচিত পরমেশ্বর ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের দিব্য লীলাসমন্বিত গ্রন্থ ‘রামায়ণ’-এর অন্যতম একটি অধ্যায় রাবণ কর্তৃক দেবীসীতা অপহরণ। নির্বিশেষবাদী ও নাস্তিকদের ধারণা, “শ্রীরামচন্দ্র তাঁর পত্নী সীতাদেবীকে রাবণের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারেননি। তাই তিনি ভগবান হতে পারেন না।” পরমেশ্বর ভগবান সম্বন্ধে যথাযথ ধারণার অপূর্ণতার কারণেই তাঁর সম্বন্ধে কেউ এমন মন্তব্য করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, রামচন্দ্র সীতাদেবীকে সুরক্ষা দিতে পারেননি-এর পরিবর্তে বলা উচিত-তিনি সুরক্ষা দেননি। কেন সুরক্ষা দেননি তা-ই এ প্রবন্ধে আলোচনা করা হলো।
সীতা অপহরণের গুপ্ত কথা-valmiki ramayana
পূর্বে বহুবার বলা হয়েছে যে, ভগবান এজগতে বিভিন্ন লীলা করেন তাঁর ভক্তের আনন্দবিধান ও জীবশিক্ষার নিমিত্তে এবং কোন লীলা থেকে কী শিক্ষা তা কেবল তাঁর ভক্তরাই উপলব্ধি করতে পারেন; অপরপক্ষে, সাধারণ মানুষ তাঁকে বুঝতে না পেরে তাঁর নিন্দা করে। সীতা দেবীকে অবশেষে শ্রীরামচন্দ্রই উদ্ধার করেছিলেন।
আর অসামর্থ্যের লীলাচ্ছলে এ কার্যে তিনি তাঁর পরম ভক্ত লক্ষণ, সুপ্রীব, বিভীষণ, হনুমান ও অন্যান্য বানরসেনাদি বিভিন্ন ভক্তদের তাঁর সেবায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ প্রদান করেছিলেন। তাছাড়া, হরিণরূপী মারীচের ইচ্ছে ছিল যে সে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের হাতে নিহত হবে এবং সেজন্য ভগবান একটি ঘটনার আবহ তৈরি করে তাকে সে সৌভাগ্য প্রদান করেছেন। রাবণ কর্তৃক সীতা অপরণের লীলা তা থেকে আমরা অনেক শিক্ষা লাভ করতে পারি।
প্রথমত, মারীচ যেমন যেমন সোনার হরিণরূপে এসেছিল, তেমনি মায়া বিভিন্নরূপে আমাদের সামনে উপস্থিত হতে পারে। বিশেষত এ কলিযুগে টিভিতে প্রদর্শিত বিভিন্ন জড়জাগতিক সিরিয়াল, সিনেমা. বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, ইন্টারনেট, ফেসবুক,ভিডিওগেম, পর্ণগ্রাফি, বন্ধু-বান্ধবী, নেশাজাতীয় দ্রব্য, জুয়াখেলা ইত্যাদি হচ্ছে মায়ার প্রলোভন। এগুলো সোনার মায়াহরিণের মতো আকর্ষণীয়, কিন্তু পরিণামে বিপদ ডেকে আনে। সর্বোপরি পারমার্থিক জীবন বিনাশপ্রাপ্ত হয়।
দ্বিতীয়ত, সীতাদেবী যেরূপ মাহরিণের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন, তেমনি, জীব যদিও মায়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়, কিন্তু ভগবান সাধু, গুরু ও শাস্ত্র নির্দেশ, এমনকি নিজে এসে বাণীর দ্বারা তাকে নিষেধ করে। কিন্তু বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও জীব যখন সেসব নির্দেশ পরোয়া না করে মায়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তখন ভগবান বা ভগবদ্ভক্তি থেকে তিনি দূরে সরে যায়। আমাদের কখনো মায়ার প্রলোভনের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া উচিত নয়। কেননা, তাহলে আমরা ভগবানকে হারাব।ঠিক যেভাবে সীতা দেবী ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে হারিয়েছিলেন।
ভগবানের চেয়ে তাঁর ভক্ত বা শ্রীগুরুদেব অধিক করুণাময়। শ্রীরাম ভগবত্তত্ত্ব এবং লক্ষণ গুরুতত্ত্ব। সীতা দেবী মায়া হরিণের প্রতি আকৃষ্ট হলে, ভগবান শ্রীরামচন্দ্র সীতা থেকে (জীবের) তত্ত্বাবধান করেন। অর্থাৎ ভগবান অসন্তুষ্ট হলেও গুরুদেব কাউকে সুরক্ষা দিতে পারেন। হরিণরূপী মারীচ শ্রীরামের কন্ঠস্বর অনুকরণ করে ভ্রাতা লক্ষণ বলে আর্তনাদ করছিলেন, তখন সীতাদেবী ভাবছিলেন যে, প্রভু রাম কোনো বিপদে পড়েছেন। তাই তিনি লক্ষণকে সেখানে গিয়ে রামকে রক্ষা করতে বলেন। কিন্তু লক্ষণের সুদৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, রামের কেউ কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এ থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, আমাদের কখনো ভগবানের প্রতি আস্থা হারানো উচিত নয়।
তো আমারই মতো শক্তিধর ছিল।
তাদের তো একমাত্র ভগবানই বিনাশ করতে সক্ষম। দেবতাদের আনন্দদাতা ও ভূভারহারী শ্রীভগবানই যদি অবতারূপে এসে থাকেন, তবে আমি বলপ্রয়োগ করে ভবসাগর পার হব। এই তামস দেহে তো আর তাঁর ভজনা হবে না; তাই এরূপ সিদ্ধান্ত কায়মনোবাক্যে নেয়াই মঙ্গলজনক। আর যদি তারা নেহাতই নরসম রাজকুমারই হয়, তবে তাদের যুদ্ধে পরাজিত করে সেই নারীকে হরণ করতে বেগ পেতে হবে না।”(তুলসীদাসকৃত রামচরিতমানস) ভগবানের হাতে রাবণের নিহত হওয়ার এ মনোভাব স্পষ্টই প্রমাণ করে যে, রামণের এ অভিলাষ পূর্ণকরাও ছিল সীতাহরণ লীলার এক বিশেষ কারণ।
বেদবতীর প্রতিক্ষা রক্ষা-(রামায়ন কথা)
রাবণ পরস্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত লালায়িত ছিল। তার পাপ কর্মে বর্ধিত হয়ে সীতা অপহরণের মধ্য দিয়ে চরমে পৌছল। রাবণ ধরণীতলে ভ্রমণপূর্বক একদিন হিমালয় পর্বতের নিকটস্থ বনে ধ্যানরতা অপূর্বসুন্দরী কন্যার প্রতি অসদাচরণ করতে উদ্যত হয়।সে মহিয়সী ছিলেন অমিতপ্রভ বৃহস্পতিসূত ব্রহ্মর্ষি কুশধ্বজের কন্যা। কুশধ্বজ নিয়মিত বেদ পাঠ করতেন। তাঁর শ্রীমুখ থেকে উচ্চারিত শব্দব্রহ্মরূপ বেদমন্ত্রই মূর্তিমতি কন্যারূপে প্রকটিত হন।
তাই সে কন্যার নাম রাখা হয় বেদবতী যিনি কেবল শ্রীবিষ্ণুকেই তাঁর পতিরূপে হৃদয়ে ধারণ করেন। রাবণ তার কেশ স্পর্শ করা মাত্রই বেদবতী অগ্নিশর্মা হয়ে নিজেই হস্ত দ্বারা সে কেশ ছিন্ন করেন এবং যোগবলে দেহত্যাগ করেন। দেহত্যগের পূর্বে প্রতিজ্ঞা করেন যে, পরবর্তী জন্মে তিনিই হবেন রাবণের মৃত্যুর কারণ। এ বেদবতীই পরবর্তীতে জনক রাজার কন্যা সীতা রূপে আবির্ভূত হন এবং রামরূপধারী শ্রীবিষ্ণুকে পতিরূপে প্রাপ্ত হন। তখন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র বেদবতীর প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করতে সীতা অপহরণ লীলা সংঘটিত করেন।
মায়াসীতা-(রামায়ন কথা)
সীতা অপহরণের ঘটনার আপাত বিচার হলো, “ভগবানের পত্মীকে সামান্য এক অসুর অপহরণ করেছে এবং ভগবান তাকে রক্ষা করতে পারেননি”। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, যে সীতাকে রাবণ অপহরণ করেছে তিনি ভগবান শ্রীরামের পত্মী সীতা নন, মায়াসীতা এবং যে রাবণ মায়া সীতাকে হরণ করেছে, সে অসুর নয়, ভগবানের মহান ভক্ত-বৈকুন্ঠের দ্বারপাল।সীতা অপহরণের পূর্বেই রামচন্দ্র মূল সীতাকে অগ্নিদেবের দায়িত্ব অনত্র রেখে দেন।
শ্রীরামের মহান ভক্ত তুলসী দাস রচিত রামায়নের (শ্রীরামচরিতমাস) অরণ্যকান্ডে এবং আরো কিছু শাস্ত্রে তার উল্লেখ রয়েছে। হরিণরূপে সীতাকে মোহিত করার প্রস্তাব নিয়ে রাবণ যখন মারীচের নিকট উপস্থিত হলেন, সেসময় লক্ষণ কন্দ ও ফলমূল আহরণে বনে গমন করেছেন। তখন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র লক্ষ্মীস্বরূপিণী সীতাদেবীকে বললেন- শুনহ প্রিয়া ব্রত রুচির সুসীলা। মৈঁ কিছু করবি ললিত নরলীলা।।
তুমহ পাবক মহুঁ করহু নিবাসা। জৈৗ লগি করৌ। নিশাচর নাসা।।
“হে পতিব্রতা সুশীলা প্রিয়তমা, শোন, আমি এখন কিছু ললিত নরলীলা সম্পাদন করব। কিছু রাক্ষস বধ করব। তাই রাক্ষস বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত তুমি অগ্নিতে নিবাস করো।”
সীতাদেবী যেরূপ মায়াহরিণের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন, তেমনি, জীব যদিও মায়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়, কিন্তু ভগবান সাধু, গুরু ও শাস্ত্র নির্দেশ, এমনকি নিজে এসে বাণীর দ্বারা তাকে নিষেধ করে। কিন্তু বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও জীব যখন সেসব নির্দেশ পরোয়া না করে মায়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তখন ভগবান বা ভগবদ্ভক্তি থেকে সে দূরে সরে যায়।
জবহি রাম সব কহা বখানী। প্রভু পদ ধরি হিয় অনল সমানী।।
নিজ প্রতিবিম্ব রাখি তহুঁ সীতা। তৈসই সীল রূপ সুবিনীতা।।
অর্থাৎ, “শ্রীরামচন্দ্র সব কথা বুঝিয়ে বলতেই সীতাদেবী শ্রীপ্রভুর পাদপদ্ম হৃদয়ে ধারণ করে অগ্নিতে মিলিত হলেন। সীতাদেবী তাঁর যে প্রতিবিম্ব বা ছায়ামূর্তি সেখানে রেখে গেলেন, তা তাঁরই মতো সুশীল স্বভাবসম্পন্না, রূপবতী ও নম্র স্বভাবযুক্তা ছিল।” লঙ্কা বিজয় তথা রাবণ বধের পর রামচন্দ্র সীতাদেবীকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে আদেশ করেন। পরমপবিত্র সীতাদেবী প্রভুর আদেশ কায়মনোবাক্যে শিরোধার্য করে নিলেন। লক্ষণের নির্মিত অগ্নিকুন্ডের সামনে দাঁড়িয়ে সীতাদেবী নির্ভয়ে বলতে লাগলেন-“যদি কায়মনোবাক্যে আমার অন্তরে শ্রী রঘুবীর ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের প্রতি আনুগত্য না থাকে, তাহলে হে অগ্নিদেব, আপনি তো সকলের গতি সম্বন্ধে সম্যকভাবে পরিচিত; আমার রক্ষায় আপনি চন্দনসম শীতল হয়ে যান।”
শ্রীখন্ড সম পাবক প্রবেস কিয়োসুমিরি প্রভু মৈথিলী।
জয় কোসলেস মহেশ বন্দিত চরণ রতি অতি নির্মলী।।
প্রতিবিম্ব অরু লৌকিক কলঙ্ক প্রচন্ড পাবকমহুঁ জরে।
প্রভু চরিত কাহুঁ ন লখে নভ সুর সিদ্ধ মুনি দেখহিঁ খরে।।
“যাঁর শ্রীচরণ দেবাদিদেব শংকর দ্বারাও সেবিত, সেই প্রভু শ্রীরামচন্দ্রকে স্মরণ করে ও তাঁর ওপর বিশুদ্ধ প্রীতি ধারণ করে আর তাঁর নামে জয়ধ্বনি দিয়ে দেবীজানকী চন্দনসমশীতল অগ্নিতে প্রবেশ করলেন। প্রতিবিম্ব তথা (সীতাদেবীর ছায়ামূর্তি) মায়াসীতা ও তাঁর লৌকিক কলঙ্ক প্রচন্ড অগ্নিতে ভস্মীভূত হলো। প্রভুর এ লীলা সকলের বোধগম্য হলো না। দেবতা, সিদ্ধ ও মুনিগণ আকাশে অবস্থান করে ঘটনাসকল প্রতক্ষ্য করে গলেন।”
সীতাদেবীর অগ্নি পরিক্ষার রহস্য
ধরি রূপ পাবক পানি গহি শ্রী সত্য শ্রুতি জগ বিদিত জো।
জিমি ছীরসাগর ইন্দিরা রামহি সমর্পি আনি সো।।
“তখনি অগ্নিদেব স্বয়ং আবির্ভূত হয়ে বেদসম্মত জগদ্বিখ্যাত প্রকৃত লক্ষ্মীদেবী তথা সীতাদেবীকে প্রভু শ্রীরামচন্দ্র অর্পণ করলেন। এ ঘটনা তেমনভাবেই ঘটল যেভাবে ক্ষীরসাগর দেবী মহালক্ষ্মীকে শ্রীবিষ্ণুর হাতে সমর্পণ করেছিলেন।” সেই সীতাদেবী শ্রীরামের বামভাগে বিরাজিতা হলেন। সেই যুগলমূর্তির অনুপম সৌন্দর্য মনে হলো যেন সদ্যপ্রস্ফুটিত নীলকমলের পাশে সুবর্ণ কমলকণিকা শোভামান রয়েছে।”
সীতাদেবীর এ অগ্নিপরিক্ষা নিয়ে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তাদের ধারণা এটা সীতাদেবীর তথা সমগ্র স্ত্রীজাতির অবমাননা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এতে সীতাদেবী যে সর্বদা সম্পূর্ণরূপে নির্মল হৃদয়, পরম পবিত্র এবং পরম সতী, সে মহিমাই কীর্তিত হয়েছে। সুতরাং সমগ্র স্ত্রী জাতির অবমাননার প্রশ্নই ওঠে না। মূলত, অগ্নিপরীক্ষার পেছনে শ্রীরামের উদ্দেশ্যে ছিল সীতার পবিত্রতা বিষয়ে জগদ্বাসী যেন কখনো কোনো সন্দেহ পোষণ করতে না পারে তা প্রতিষ্ঠিত করা এবং সকলের অলক্ষে মায়াসীতাকে বিসর্জন দিয়ে প্রকৃত সীতাকে অগ্নিদেবের কাছ থেকে ফিরিয়ে নেয়া।
এভাবে, ভগবান শ্রীরামচন্দ্র বেদবতী নাম্নী তাঁর ভক্তের বাক্য সত্যে পরিণত করতে, ভৃগুমুনি ও চতুস্কুমারের অভিশাপ পূর্ণ করতে, বীর-রস আস্বাদন করতে, কুম্ভকর্ণ ও রাবণকে অসুরজীবন থেকে মুক্তি দিতে এবং সর্বপুরি রামায়ণের রোমাঞ্চকর লীলার মধ্য দিয়ে ভক্তের আনন্দ বিধান ও জগজ্জীবকে শিক্ষা দেয়ার নিমিত্তে সীতা অপহরণ লীলা সংঘটিত করেন। কিন্তু ভগবানের এ লীলারহস্য বুঝতে না পেরে কেউ কেউ ভগবানের অক্ষমতা মনে করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে একথা স্পষ্ট যে, রাবণ কর্তৃক সীতাহরণ ভগবানের অসমর্থতা প্রমাণ করে না বরং তাতে ভগবান শ্রীরামের মহিমা আরো বর্ধিত হয়েছে, এজন্যই যে, ভগবান কত তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা এমন জটিলতাপূর্ণ অদ্ভুত লীলা সম্পাদন করেছেন।-হরেকৃষ্ণ
